২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষ

বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাস জাতিসংঘের

চলতি ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদন ১ শতাংশ বেড়ে ৭৯ কোটি ৬০ লাখ টনে পৌঁছবে।

চলতি ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদন ১ শতাংশ বেড়ে ৭৯ কোটি ৬০ লাখ টনে পৌঁছবে। এমন পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অঞ্চলে প্রত্যাশিত উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে বিশ্বব্যাপী এর প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।

এফএওর সর্বশেষ শস্য সরবরাহ ও চাহিদা সম্পর্কিত তথ্য অনুসারে, চলতি বছরে মূলত সফট হুইটের আবাদ বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যার বেশির ভাগ সম্প্রসারণ হবে ফ্রান্স ও জার্মানিতে। সেই সঙ্গে ইউরোপীয় অন্যান্য দেশে গমের গড় ফলন ক্রমান্বয়ে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এফএও সতর্ক করেছে, পূর্ব অঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়া ও পশ্চিম ইউরোপ বিশেষ করে ফ্রান্সে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত উৎপাদন বাড়ানোর এ সম্ভাবনাকে কিছুটা সীমিত করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রেও চলতি বছরে গম চাষ বাড়তে পারে। এফএও জানিয়েছে, দেশটির শীতকালীন আবাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি বসন্তকালীন গমের চাষ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি সয়াবিন চাষের পরিবর্তে গমের দিকে ঝুঁকতে পারেন কৃষকরা। তবে শুষ্ক আবহাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকায় উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে উৎপাদন কমে ৫ কোটি ২৫ লাখ টনে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বিশ্বের বৃহত্তম গম রফতানিকারক রাশিয়ায় টানা তৃতীয় বছরের জন্য গমের উৎপাদন হ্রাসের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং তুষারপাতের কারণে বছরে ২ শতাংশ উৎপাদন কমে আট কোটি টনে দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এফএও।

২০২৪-২৫ শস্যবছরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত মাসের দেয়া পূর্বাভাস সংশোধন করায় উৎপাদন ৩৬ লাখ টন বেড়ে ৭৯ কোটি ২২ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী চাল উৎপাদন রেকর্ড ৫৪ কোটি ৩০ লাখ টন হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে এফএও, যা ফেব্রুয়ারির পূর্বাভাসের চেয়ে ৩৬ লাখ টন বেশি।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ সালের জন্য বৈশ্বিক খাদ্যশস্য উৎপাদন সামান্য সংশোধন করে ২৮৪ কোটি ১০০ টনে তোলা হয়েছে। তবে ২০২৩-২৪ শস্যবর্ষের রেকর্ড উৎপাদন ২৮৫ কোটি ৬০ লাখ টন থেকে কম থাকবে। এছাড়া ভুট্টা, বার্লি, ওটস, জোয়ারসহ মোটা দানার শস্যের উৎপাদন মাসিক ভিত্তিতে ৬২ লাখ টন কমবে। যা গত বছরের রেকর্ড ১৫২ কোটি ৯০ লাখ টনের তুলনায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টন কম।

চলতি মাসে ২৭ লাখ টন ঊর্ধ্বমুখী সংশোধন সত্ত্বেও ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী শস্যের মজুদ প্রাথমিক স্তর থেকে ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৮৬ কোটি ৯৩ লাখ টনে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ হিসেবে শস্যের ব্যবহার বৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত দিয়েছে এফএও। খাদ্যশস্যের ব্যবহার আগের বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেড়ে ২৮৬ কোটি ৭০ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

যদিও গম উৎপাদন বাড়তে পারে, তবুও এটি চলতি বছরে পূর্বাভাসকৃত ৮০ কোটি ২৫ লাখ টন চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম নাও হতে পারে। এ ঘাটতি বিশ্বব্যাপী গমের মজুদ কমাতে পারে, যার ফলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

আরও